Category Archives: রোগ এবং চিকিৎসা

কিডনি সুস্থ রাখে যেসব খাবার। কিডনি রোগীর খাবার তালিকা। কিডনি সুস্থ রাখতে ফলের ভূমিকা।

এক নজরে কিডনির সমস্যা ও সমাধান

অনেকসময় সচেতনতার অভাবে কোনো রোগ অনেক কঠিনের দিকে চলে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দেখে আগেই রোগের উপস্থিতি জানা গেলে দ্রুত আরোগ্য সম্ভব হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক কিডনির সমস্যা কিভাবে বুঝবেন।

কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিডনি রোগ আছে, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কিডনি ফেইলুর হয়ে যায়। অর্থাৎ কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। কিডনি ফেইলুরের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগ। মেডিসিন বা অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ফেইলুরে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে কিডনি রোগের শেষ পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। পাঁচটি ধাপে কিডনি বিকলের দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম চারটি ধাপ পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় অথবা যে গতিতে কিডনি ক্ষয় হচ্ছে তা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু একবার পাঁচ নম্বর ধাপে চলে গেলে তখন বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন। এসব পদ্ধতি খুবই ব্যয়বহুল।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে কিডনি রোগের লক্ষণগুলোর কথা-

প্রস্রাবে পরিবর্তন- কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এ সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।

প্রস্রাবের সময় ব্যথা- প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।

ত্বকে দাগ হওয়া- কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং দাগ তৈরি করতে পারে।

বমি বা বমি বমি ভাব- রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

ছোট ছোট শ্বাস- কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।

পেছনে ব্যথা- কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

দেহে ফোলা ভাব- কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া- লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।

সবসময় শীত বোধ হওয়া- কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।

কিডনির নানান ধর নের রোগের লক্ষণ আলাদা আলাদা হয় , যার মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি প্রধানত দেখা যায়:

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে চোখ ফুলে যাওয়া।
মখ এবং পা ফুলে যাওয়া।
ক্ষুধামান্দ্য , বমি ভাব , দুর্বল ভাব।
বার বার প্রস্রাবের বেগ , বিশেষ করে রাত্রে।
কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ
শারীরিক দুর্বল ভাব , রক্ত ফ্যাকাসে হওয়া।
অল্প হাঁটার পরে, নি শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা তাড়াতাড়ি ক্লাস্তি অনুভব করা।
৬ বছর বয়সের পরেও রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করা।
প্রস্রাব কম আসা
প্রস্রাব করার সময় জুলন অনুভব করা এবং প্রস্রাবে রক্ত বা পুজ-এর উপস্থিতি।
প্রস্রাব করার সময় কষ্ট হওয়া। ফোটা ফোটা করে প্রস্রাব হওয়া।
পেটের মধ্যে গিট হওয়া , পা আর কোমরের যন্ত্রণা।

কিডনি ভালো রাখার উপায়-

– ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্গ্নোবিন এওয়ানসি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

– উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। (১৩০/৮০-এর নিচে যাদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে তাদের ১২০/৭০-এর নিচে)।

– ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা।

– শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে।

– ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।

– চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।

– চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা।

– প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া।

জেনে নিন কিডনির যত্নে যে পাঁচটি নিয়ম আপনাকে মানতেই হবে:

১. প্রতিদিন অবশ্যই অন্তত ৭-৮ গ্লাস (২-৩ লিটার) পানি খাওয়া দরকার।

২. কখনোই প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। এতে সংক্রমণের (ইনফেকশন) আশঙ্কা থাকে।

৩. আপনার বয়স ৪০ বছরের বেশি হয়ে গেলে নিয়মিত বছরে অন্তত একবার ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করান। ডায়াবেটিস বা ব্লাড প্রেশার থাকলে তা নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক (পেনকিলার) ওষুধ বা কোনও অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।

৫. বছরে অন্তত একবার প্রসাবের মাইক্রো-এলবুমিন পরীক্ষা করান।

মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কি-না এবং একটি সহজ সমীকরণে বের করা যায় কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছে। একটি হলো- প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রো অ্যালবুমিন যায় কি-না এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিন।

একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, সচেতন হলেই এবং একটু কষ্ট করে যদি লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার প্রণালি বদলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে চলা যায়, তাহলে কিডনি বিকল হওয়ার এসব কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা


দেশী ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি ফল। সাধারণ এবং সহজলভ্য এই ফলটির পুষ্টিগুণ অনেক। শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতায়ও রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। পেয়ারার পুষ্টিগুণ:
পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ। একটি পেয়ারাতে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে একটি মাঝারি আকৃতির কমলা থেকে। ১০ গুণ বেশি ভিটামিন এ রয়েছে লেবুর তুলনায়। এছাড়া ভিটামিন বি২, ই, কে, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম রয়েছে।
উপকারিতা:
১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে।
২। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস
পেয়ারাতে লাইকোপিন, ভিটামিন সি, কোয়ারসেটিন এর মত অনেকগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা শরীরের ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি প্রোসটেট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৩। হার্ট সুস্থ রাখতে
১৯৯৩ সালে “Journal of Human Hypertension” এ প্রকাশিত হয় যে নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্ত চাপ ও রক্তের লিপিড কমে। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন সি রয়েছে। পটাশিয়াম নিয়মিত হৃদস্পন্দনের এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ভাবে লাইকোপিন সমৃদ্ধ গোলাপি পেয়ারা খেলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমায়।
৪। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
চাইনিজ চিকিৎসা শাস্ত্ররে অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা ব্যবহার হয়ে আসছে। ১৯৮৩ সালে American Journal of Chinese Medicine প্রকাশ করেন যে, পেয়ারার রসে থাকা উপাদান ডায়াবেটিস মেলাইটাসের চিকিৎসায় খুবই কার্যকর। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পেয়ারা পাতাও বেশ কার্যকর। কচি পেয়ারা পাতা শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে ১ কাপ গরম জলে ১ চা চামচ দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রেখে তারপর ছেঁকে নিয়ে পান করতে পারেন প্রতিদিন।
৫। ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে
বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত সমস্যা যেমন ব্রংকাইটিস সারিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে পেয়ারা। উচ্চ পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন সি থাকায় এটি শ্লেষ্মা কমিয়ে দেয়। তবে কাঁচা পেয়ারা ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে কার্যকর।
৬। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
পেয়ারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৭। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে
ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন এ কর্নিয়াকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখুন। কাঁচা পেয়ারা ভিটামিন এ এর ভাল উৎস।

★★ আর্থাইটিস বা বাতের সমস্যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা★★

বাতের ইংরেজি হল আর্থাইটিস। এটি গ্রীক শব্দ আর্থো ও আইটিস থেকে এসেছে। আর্থো অর্থ সন্ধি আর আইটিস অর্থ প্রদাহ। আজকে আমি বাত বা আর্থাইটিসের বিভিন্ন প্রকার, কারণ ও লক্ষ্মণ নিয়ে আলোচনা করবো যাতে আপনি কি ধরনের বাত রোগে আক্রান্ত তা সহজেই চিন্হিত করে চিকিৎসকে চিকিৎসা প্রদানে সহায়তা করতে পারেন।বাত বা আর্থাইটিস বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে তার মধ্যে খুবই কমন কয়েকটি বাত নিয়ে আলোচনা করবো।

🔴 রিউমাটয়েড আর্থাইটিস বা সন্ধি বাতঃ এটি অল্প বয়সি মহিলাদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। কি কারণে হয়ে থাকে তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এটি অটো ইমিউন ডিজিস বিধায় আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমের ভালো ভালো জয়েন্ট বা সন্ধি গুলোতে আক্রমণ বা প্রদাহ সৃষ্টি করে যার ফলে রিউমাটয়েড আর্থাইটিস বা সন্ধি বাতের মত রোগ হয়। এই রোগ হলে আমাদের হাত ও পায়ের ছোট ছোট গিট বা জয়েন্ট ব্যাথা হয়, ফুলে যায়, লালচে হয়ে যায়, হাত মুষ্টি করা যায় না, এছাড়া কব্জি কনুই এবং চোয়ালে ব্যাথা হয়।জয়েন্ট গুলো গরম থাকে, গায়ে জ্বর থাকে ও ক্ষুধা মন্দা দেখা দেয়। রক্তের ইএসআর, আরএ ফ্যাক্টর পজিটিভ হলে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনি সন্ধি বাতে আক্রান্ত।

🔴 অস্টিও আথ্রাইটিসঃজেনেটিক বা জন্মগত প্রবৃত্তি এই রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ ক্ষেত্রে যে সকল জয়েন্ট বা সন্ধির উপর শরীরের চাপ বেশী পড়ে সে সকল সন্ধিগুলো বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেমন হাঁটু, হিপ । তাছাড়া হাত ও পায়ের জয়েন্টগুলোও আক্রান্ত হয়। এমনকি মানব দেহের অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্পাইন বা মেরুদ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।যখন বয়সগত কারণে হাঁটু সন্ধি আক্রান্ত হয় তখন এটিকে প্রাথমিক বা প্রাইমারি আথ্রাইটিস হিসেবে ধরে নেয়া হয়। যদি অতীত কোন ঘটনার জন্য এ রোগ দেখা দেয় তবে এটাকে সেকেন্ডারি অস্টিও আথ্রাইটিস হিসেবে ধরে নেয়া হয়। সেকেন্ডারি আথ্রাইটিস নিম্নলিখিত যে কোন কারণে হতে পারে। যেমন ট্রমা, জয়েন্ট সার্জারি, স্থুলতা, গেঁটে বাত, বহুমূত্র, হরমোনাল সমস্যা (বিশেষত গ্রোথ হরমোন) ইত্যাদি।

🔴 অস্টিও আথ্রাইটিস-এর লক্ষণসমূহ :১। আক্রান্ত সন্ধিস্থানে ব্যথা এবং আড়ষ্ট হওয়া।২। আক্রান্ত স্থান ফুলে যাওয়া এবং উত্তপ্ত হওয়া।৩। সন্ধিস্থানে ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করা।৪। পুনঃপুনঃ ব্যবহারে জয়েন্টের ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া।৫। বিশ্রামেও ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে (সিভিয়ার কেসের ক্ষেত্রে)।৬। সন্ধিগুলোর গতিশীলতা সীমিত হয়ে যাওয়া।৭। উবু হয়ে বা আসনপিঁড়ি হয়ে বসার অক্ষমতা।৮। হাতের আঙ্গুলের ছোট ছোট সন্ধিগুলোর বিশেষ পরিবর্তন।৯। স্পাইন অস্টিও আথ্রাইটিস এর কারণে ঘাড় ব্যথা ও আড়ষ্ট হওয়া।১০। চরম পর্যায়ে কোন কোন ক্ষেত্রে তীব্র যন্ত্রণা ও আবশ্যকতা ।

🔴 গেটে বাতঃ এটি হওয়ার প্রধান কারণ হলো আমাদের শরীরে যদি রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায় তখন গিঁটে গিঁটে তা জমাট বেঁধে এক প্রকার প্রদাহ সৃষ্টি করে যা গেঁটে বাত নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে জয়েন্টে ব্যাথা হয়, পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা হয়, হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। রক্তের ইউরিক অ্যাসিড টেস্ট করিয়ে জেনে নিন আপনি গেঁটে বাতে আক্রান্ত কিনা।

🔴 লাম্বাগো বা কটি বাতঃ সাধারণত কোমরের বাত ব্যাথাকে লাম্বাগো বা কটি বাত বলে। ভারী কোন বস্তু তুলতে গিয়ে কোমরে ব্যাথা পেলে অথবা হারনিয়াটেড বা স্লিপের ডিস্ক কোন কারণে সরে গেলে সেক্ষেত্রে কোমরের ব্যাথা বা কটিবাত হয়ে থাকে। এক্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।

🔴 স্পনডিলাইটিস বা মেরুদণ্ড প্রদাহঃ মেরুদণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। সারভাইকেল এরিয়া, থোরাসিক এরিয়া, লাম্বার এরিয়া। এই এরিয়ার যেখানে প্রদাহ হবে সে জায়গার নাম অনুযায়ী প্রদাহ গুলির নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন সারভাইকেল স্পনডিলাইটিস, থোরাসিস স্পনডিলাইটিস, লাম্বার স্পনডিলাইটিস। এক্ষেত্রে ঘাড় ডানে-বামে সামনে পিছনে করা যায় না। থোরাসিসের ক্ষেত্রে পিঠে চাপা বোধহয় সামনে পিছনে ঝুঁকা যায় না। লাম্বারের ক্ষেত্রে কোমরে ব্যথা করে। এক্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ রোগের যন্ত্রনা পিঠে ও ঘাড়ে উভয় বাহুর সন্ধিতে, কোমরে প্রথমে পরিলক্ষিত হয়। আবার যদি কোন কারনে স্পাইনের ত্রুটি দেখা দেয়, তবে সেক্ষেত্রে নার্ভের উপর চাপ পড়লে শরীরের যে কোন অংশে যন্ত্রনা দেখা দিতে পারে।

★কি কারনে হয়ঃএর কারন বহুবিধ, তবে মানসিক চাপ,অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং অপুষ্টির জন্য সাধারনত এ রোগকে দায়ী করা হয়। আবার কোন কারনে আঘাত বা টিউমারের কারনে ও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

★স্পন্ডিলাইটিস হলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তা হলোঃঅনেক সময় এ রোগের ফলে ঘাড় আক্রান্ত হয়ে শক্ত হয়ে যায়। আবার কখনো এ রোগের প্রভাবে শ্বাস- প্রস্বাসে সমস্যা হয়।শরীরের সন্ধিগুলোতে তীব্র যন্ত্রনা দেখা দেয়। যৌন জীবনেও এর বিরুপ প্রভাব পড়তে থাকে। পিঠ, ঘাড়,কাঁধ ও বাহুর সন্ধিগুলোতে এবং কোমরের যন্ত্রনারই তীব্রতা বেশী থাকে। কখনো রোগীর যন্ত্রনা এত তীব্র হয় যে, তা সৈহ্যের বাইরে চলে যায়। নার্ভের জন্য কখনো হৃদপিন্ডে যন্ত্রনার প্রকাশ পায়।বুকের পাঁজরের সাথে মেরুদণ্ডেরর সন্ধিগুলোশক্ত হয়ে পড়ে বলে পেটেও মাঝে মধ্যে যন্ত্রনা পরিলক্ষিত হয়। স্পন্ডিলাইটিস দেখা দেয়ার পরপেশীর শক্তিগুলো কমে যায়, এবংক্রমান্বয়ে হাড়ক্ষয় হতে থাকে। আবার হাড়বৃদ্ধি ও ঘটে অনেকটা উপরোল্লিখিত কারনেই। হাড়বৃদ্ধি হলে নার্ভে চাপ পড়ায় রোগী নড়াচড়া করতে পারেনা। তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রেেই রোগী বিছানায় শুয়ে উপুড় হয়ে মল- মুত্র ত্যাগে বাধ্য হয় এবং উপুড় হয়ে সারাক্ষণ মাত্রাতিরিক্তযন্ত্রনা ভোগ করে।অনেকে সুচিকিৎসার অভাবে সারা জীবনের জন্য পংগুত্ব বরন করতে হয়। এ রোগীদের নামাজ পড়তে অসুবিধা হয়। কারন সামনে ঝুকতে পারে না।।

★এ রোগীর করনীয় বিষয় হলো :সর্বদা পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন,প্রোটিন,কার্বোহাইড্রেড ও ভিটামিনের উপর দৃষ্টি রাখা জরুরী।মেরুদণ্ডে আঘাত পায় এমন কাজ বর্জন, দৈহিক পরিশ্রম মাত্রাতিরিক্ত না করা, কাপড়-চোপড় ধৌত না করা, সারাক্ষণ বিশ্রামে থাকা, হাতে কিংবা মাথায় ভারী জিনিস বহন অনুচিত। নিয়মিত ব্যায়াম দরকার, তবে নিয়ম মাফিক হওয়া চাই।শোবার বিছানা রোগীর যাতে যন্ত্রনা না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।সর্বোপরি এ রোগ নিরসনে একজন অভিজ্ঞ হোমিওকনসালটেন্ট এর পরামর্শ নিন

★এ রোগের চিকিৎসাঃএলোপ্যাথিতে হাড়ক্ষয়, হাড়বৃদ্ধি ও স্পন্ডিলাইটিস এর চিকিৎসা হয়না বলে অপারেশন করে সাময়িক যন্ত্রনা কমানো হয়, তাও আবার লক্ষ লক্ষ টাকা গুনতে হয় এর প্রেক্ষিতে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় একই ব্যাাধিতেরোগী আক্রান্ত হয় ও নাট-বল্টু গুলো পুনরায় প্রতিস্হাপন করা লাগে। এরফলে রোগী জীবন ভর ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন করতে হয়, না হয় রোগীর চিৎকারে কেউ স্হির থাকা যায়না। দীর্ঘদিন হাই পেইন কিলার ওষুধ সেবনে কিডনি সমস্যা সহ শরীরের অন্য অংগে বিভিন্ন নতুন রোগের সৃষ্টি হয়।মোটকথা রোগীর জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।

🔴 সাইটিকা বাতঃ আমাদের কটি বা মাজা থেকে পিছনের দিকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা মোটা পুরু নার্ভ থাকে। এই নার্ভ কোন কারণে আঘাত প্রাপ্ত হলে অথবা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সাইটিকা বাত বা সাইটিকা ব্যাথা হয়ে থাকে। এক্সের করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

🔴 বাতজ্বর বা রিউমেটিক ফিভারঃ এটি ৫-১৫ বছর বয়স্কদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। ইহা জয়েন্ট, চামড়া, হৃদপিন্ড ইত্যাদিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এটি স্টেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর ফলে জ্বর হয়, ব্যাথা হয়, ব্যাথা শরীরে স্থানান্তর হয়, চামড়া লালচে হয় ও চামড়ার নীচে রেশ দেখা যায়। এতে হার্টবিট অনিয়মিত হয়ে থাকে। সময় স্বল্পতার কারনে পুরো বিষয় বর্ণনা করা সম্ভব হলো না। পরবর্তী কোন এক সময় বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ

🔴 আর্থাইটিস রোগের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃহোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় উপরোক্ত সকল প্রকার বাত রোগ আরোগ্য হয় ইনশাআল্লাহ্।এলোপ্যাথি চিকিৎসায় এ রোগগুলো আরোগ্য না হলেও হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে, যা মহান আল্লাহপাকের ইচ্ছায় শতভাগ ভাল হয় তাও আবার বিনা অপারেশনে কম সময়ে, কম খরচে।সঠিক ওষুধ নির্বাচনে এ রোগের চিকিৎসায় মাত্র ০১ মাস থেকে ০৬ মাসের (সর্বনিম্ন) মধ্যে মহান আল্লাহপাকের ইচ্ছায় সারা জীবনের জন্য সম্পুর্ন আরোগ্য লাভ করা যায়।

🔴 হোমিওপ্যাথিতে সাধারনত নিম্নলিখিত ওষুধগুলো লক্ষণভেদে প্রয়োগ করা হয়ে থাকেঃ-💼 রাসটক্স💼ব্রায়োনিয়া💼আর্নিকা💼ক্যাল কার্ব💼ক্যাল ফ্লোর💼ব্রোমাইড💼ক্যালি কার্ব💼লিডাম💼কলোফাইলাম💼কুপ্রাম💼এবিস💼কলচিকম ইত্যাদি।সঠিক ডাক্তার খুঁজে নিন।সঠিক সিদ্ধান্ত বুঝে নিন।পরিবার, সন্তান আপনার, বিবেচনা-ফলাফল এর দায়’ও আপনার!সবাই সুস্থ থাকুন।

মুখে গোটা বেরনো বা ব্রণ হওয়াটা খুবই সাধারণ একটা সমস্যা। কিন্তু যখন এই সমস্যা হয়, তখন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

মুখে গোটা বেরনো বা ব্রণ হওয়াটা খুবই সাধারণ একটা সমস্যা। কিন্তু যখন এই সমস্যা হয়, তখন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বয়ঃসন্ধির সময় তো বটেই নানা বয়সেই এই সমস্যা হতে পারে। লোমকূপের তলায় তৈলনিঃসরণ গ্রন্থি এবং মৃত কোষের জুগলবন্দিতে এই সমস্যা হয়। ব্রণ বেরলে অনেকেই দৌড়ান চিকিৎসকের কাছে। আবার অনেকেই দামি ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু বাড়িতে হাতের কাছেই রয়েছে এমন অনেক উপাদান, যা দিয়ে অতি সহজে সমাধান করা যায় এই সমস্যার।

শসা

কেবল খাদ্যগুণই নয়, শসার নানা গুণ রয়েছে। তার মধ্যে একটা অবশ্যই ত্বকের কাজে লাগা। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এর প্রতিটিই ত্বকের জন্য মারাত্মক ভালো। শসা থেঁতো করে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন মুখ। এছাড়াও শসাকে অন্যভাবে ব্যবহার করতে পারেন। শসা গোল গোল করে কেটে অন্তত একঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানি খেয়েও নিতে পারেন, বা ওই পানি দিয়ে মুখও ধুয়ে নিতে পারেন।

টুথপেস্ট

ফেসপ্যাকের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন টুথপেস্ট। মুখের অতিরিক্ত তেল টেনে নেওয়ায়র ক্ষমতা আছে এই পেস্টের। ফলে তৈলাক্ত ত্বকের কারণে যাদের মুখে ব্রণ বা গোটা বেরয়, তারা টুথপেস্ট ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন। তবে বেশি নয়, খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন ব্রণের জায়গায়। সমস্যা না হলে পরিমাণ বাড়ান।

গ্রিন টি

গ্রিন টি গোটা বা ব্রণের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী। গরম পানি গ্রিন টি বানান। তারপর সেই গ্রিন টি একদম ঠাণ্ডা করে ব্রণ বা গোটার জায়গায় ব্যবহার করুন। তুলায় ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভালো করে ত্বকের ওপর মিশতে পারবে চায়ের মিশ্রণটি। যদি টি ব্য়াগ থেকে গ্রিন টি বানান, তাহলে ঠাণ্ডা গ্রিন টি ব্যাগটিও রাখতে পারেন ত্বকের ওপর। মিনিট ২০ রাখার পর ধুয়ে নিন।

অ্যাসপিরিন

খাওয়ার ওষুধ হিসেবেই নয়, ব্রণ বা গোটা সারাতেও এই ওষুধের জুড়ি নেই। এতে থাকা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে দেয়। চার-পাঁচটা ট্যাবলেট প্রথমে গুঁড়িয়ে নিন। তারপর সেগুলো অল্প পানির সঙ্গে মেশান। এমনভাবে মেশাবেন, যাতে একটা পেস্ট তৈরি হয়। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পেস্ট আক্রান্ত জায়গায় লাগান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে, কয়েক মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন।

রসুন

রসুন ব্রণের বড় শত্রু। এটি ব্যবহার করাও খুব সহজ। এক-দুই কোয়া রসুন দুই টুকরা করে কেটে নিন। তারপর ব্রণের জায়গায় রসটা লাগান। মিনট পাঁচেক পরে ধুয়ে ফেলুন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে এটা করলে পরদিন সকালে ত্বকের উন্নতি টের পাবেন।

লেবুর রস

তুলায় করে লেবুর রস ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে নিতে পারেন। লেবুর রসের সঙ্গে দারুচিনির মিশ্রণ তৈরি করে, রাতে শুতে যাওয়ার আগে সেটা ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখতে পারেন। সকালে হালকা উষ্ণ পানিতে ধুয়ে নেবেন।

ত্বকে যখন মেছতা, ব্রণ কিংবা চোখের নিচে কালো দাগ পরে যায় তখন মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এই মুখ নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই লজ্জা করে। যদিও মেকাপ লাগিয়ে দাগ লুকানো সম্ভব কিন্তু দূর করা সম্ভব না।



তবে ঘরোয়া কিছু উপায়ে অবলম্বন করতে পারলে মুখের এই বিচ্ছিরি দাগগুলো দূর করা সম্ভব। এই উপায়গুলো উল্লেখ করা হলো-

আলু

মুখের কালো দাগ সরাতে ভালো কাজ করে আলুর রস। এক্ষেত্রে আলুর রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

দুধ ও মধু

দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে কালো দাগের উপর দশ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। টানা কয়েকদিনের ব্যবহারে আপনার মুখের দাগ উধাও হয়ে যাবে।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা জেল বা রস, মুখের দাগের উপর আলতো হাতে মালিশ করে নিন। প্রত্যেকদিন এর ব্যবহারে আপনার মুখের দাগ মুছে গিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা থেকে রস বের করে নিন। এর রস লাগানোর আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর রস মুখে দিয়ে মাসাজ করুন। এছাড়া অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মাস্ক বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

শসা ও টমেটো

শসা ও টমেটো মুখের উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে দুটোই কার্যকরী। কয়েকটি শসার টুকরো নিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন, তাতে সামান্য মধু ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান। টমেটো কেটে মুখে আলতোভাবে ঘষতে থাকুন। তারপর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পাকা পেঁপে

পাকা পেঁপে কালো দাগ দূর করতে ভালই সাহায্য করে। এক্ষেত্রে পাকা পেঁপের পেস্ট মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। সামান্য লেবুর রস মিশিয়েও তা ব্যবহার করতে পারেন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

লেবু

কালো দাগ তুলতে লেবু খুবই কার্যকরী। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর রস ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও কালো দাগ দূর করে। দাগের উপর কিছুক্ষণ লেবুর রস ঘষতে থাকুন, শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

স্তন টিউমার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিঃ

#স্তন টিউমার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিঃ

বর্তমানে ব্রেস্ট টিউমার সম্পর্কে মহিলারা ধীরে ধীরে সচেতন হয়ে উঠেছে।এর জন্য দরকার গণসচেতনতা।টিউমার হলো দেহ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটা কখনো Benine বা অক্ষতিকর আবার কখনো Malignant বা ক্যান্সার রূপে দেখা দেয়। প্রতিনিয়ত আমাদের দেহে পুরনো কোষ ধ্বংস হয়ে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোষ তৈরি হয়। কোনো কারণে কোষের বিভাজন ও ধ্বংসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হলে টিউমার তৈরি হয়।

#Brest Tumour এর কারণঃ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Brest Tumour বা Cancer এর কারণ হিসেবে মায়াজমকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাইকোসিস ও টিউবারকুলোসিস মায়াজম ও সক্রিয় থাকতে পারে। এছাড়া পারিবারিক বা বংশগত ইতিহাসে কারও ক্যান্সার হয়ে থাকলে ওই মায়াজমটি Brest Cancer-এর ঝুঁকিটা আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে ডিজিটাল বিজ্ঞান এখনো স্তনের টিউমার বা ক্যান্সার জাতীয় টিউমারের কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা Brest Tumour-এর কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন।

যেমন:★ কোনো আঘাতজনিত কারণে স্তনের Tissue বা কোষ নষ্ট হয়ে গেলে।

★অনেক বেশি বয়সে প্রথমে গর্ভধারণ।

★ বাচ্চাকে যদি স্তনের দুধ পান করানো না হয়।

★ যেসব পরিবারে ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইতিহাস পাওয়া যায়।

★ ইস্টোজেন ও প্রজেস্টোরেন হরমোনের আনুপাতিক বৈষম্য তেজষ্ক্রিয় আয়নের প্রভাবের কারণে।

★ মাসিক হচ্ছে একটি বড় কারণ। কম বয়সে মাসিক হওয়া এবং বেশি বয়সে বন্ধ হয়।

★ এছাড়া রেডিয়েশনের প্রভাবেও টিউমার ও ক্যান্সার হতে পারে।

#হোমিওপ্রতিবিধানঃ রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আধুনিক ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ও কষ্টকর থেরাপি ছাড়াই সুস্থতা লাভ করা সম্ভব।এবং রোগীর লক্ষণগুলো সংগ্রহ করে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করতে পারলে তাহলে ব্রেস্ট টিউমার ও জরায়ু টিউমার, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দ্বারা ঈশ্বরের কৃপায় সম্ভব ।

সঠিক ডাক্তার খুঁজে নিন।

সঠিক সিদ্ধান্ত বুঝে নিন।

পরিবার, সন্তান আপনার, বিবেচনা-ফলাফল এর দায়’ও আপনার!

সবাই সুস্থ থাকুন।